ইঞ্জিন অয়েল ধরন ও সুবিধা–অসুবিধা  

2020-08-24   109   English  

ইঞ্জিন অয়েল ধরন ও সুবিধা–অসুবিধা


ইঞ্জিন অয়েল কী?


ইঞ্জিন অয়েল ধরন সম্পর্কে জানার আগে প্রথমেই জানতে হবে ইঞ্জিন অয়েল কী? ইঞ্জিন অয়েল হচ্ছে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন কে পিচ্ছিল রাখা যাতে সহজে ইঞ্জিনের পার্টস মুভমেন্ট হয়, ইঞ্জিন কে ঠান্ডা রাখা, ইঞ্জিন চলার ফলে যে সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ময়লা হয় তা পরিস্কার করে ইঞ্জিন কে সঠিকভাবে চলতে দেয়া যাতে সঠিক আউটপুট পাওয়া যায়। যদিও আমাদের দেশে ইনজিন অয়েল মবিল নামেই বেশি পরিচিত। প্রকৃতপক্ষে মবিল হলো ইনজিন ওয়েলের একটি ব্রান্ড। এই ব্রান্ডটি আমাদের দেশে এতোটাই জনপ্রিয় এবং পরিচিত যে আমরা ইনজিনওয়েলকেই মবিল বলে থাকি। ইনজিন অয়েল আরো কয়েকটি নামে পরিচিত যেমন মোটরঅয়েল বা ইনজিন লুব্রিকেন্ট ইত্যাদি |

 

ইঞ্জিন অয়েলের ধরন

আমাদের দেশে সাধারণত ৩ ধরনের ইঞ্জিন অয়েল দেখতে পাওয়া যায়

১। মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল
২। সেমি সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল
৩। সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল

এবার চলুন এই ইঞ্জিন ওয়েলের ধরনগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক


১। মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল


প্রকৃতি থেকে আরোহিত অপরিশোধিত তেল থেকে শোধনের মাধ্যমে মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল পাওয়া যায়। মিনারেল ইনজিন অয়েল দামে কম এ কারনে এতে অন্যান্য কেমিক্যাল যোগ করা হয়না। বিধায় ইহা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়না কিন্তু ইঞ্জিনের চাহিদা পুরনে সক্ষম। এই ইঞ্জিন অয়েল স্বাভাবিক ভাবে মোটরসাইকেলে ৯০০ থেকে ১০০০কিমি পরপর পরিবর্তন করা উত্তম।


সুবিধা ও

    দামে কম
    বাজারে সহজলভ্য

অসুবিধা

    ঘন ঘন পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে
    উচ্চতাপে বা বেশি ঠান্ডায় কম কার্যকর
     সেরা পারফর্মেন্স এর জন্য উপযুক্ত নয়
    নিয়মিত চেঞ্জ না করলে ইঞ্জিনের পার্টস ক্ষয় বেড়ে যায়
    ইঞ্জিনে নানা রকম শব্দ হয়
    দ্রুত পাতলা হয়ে কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়
    উপকারি ক্যামিকেল দেয়া থাকেনা আলাদাভাবে
    সর্বোচ্চ প্রযুক্তিতে পরিশোধিত নয়

২। সেমি সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল


সেমি-সিনথেটিক কে সিনথেটিক ব্লেন্ড বা মিশ্রন ও বলা হয়। এখানে মিনারেল এবং সিনথেটিকের মিশ্রনে তৈরী হয়, তবে মিশ্রনে সিনথেটিক এর পরিমান কোনমতেই ৩০% এর বেশি নয়। কমদামে সিনথেটিক অয়েলের সুবধা নেবার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। ১৯৬৬ সালে Motul সর্বপ্রথম এটি প্রচলন করে। এটি অনেকটা দুধের সাধ ঘোলে মিটানোর মত।


সুবিধা

    সিনথেটিক এর ফ্লেভার কিছুটা হলেও পাওয়া যায়
    এটি সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েলের মতই ইঞ্জিনকে সুরক্ষিত রাখে
    মিনারেল ইঞ্জিন অয়েলের থেকে ভালো পারফরমেন্স পাওয়া যায়
    সিনথেটিক এর তুলনায় দামে কম

অসুবিধা

    মিনারেলের পরিমান বেশি থাকার ফলে উচ্চতাপে বা বেশি ঠান্ডায় কম কার্যকর
    সর্বোচ্চ প্রযুক্তিতে পরিশোধিত নয়

৩। সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল


ইঞ্জিন অয়েল কে সর্বোচ্চ প্রযুক্তিতে  পরিশোধন করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়। এখানে প্রতিটা কণা একই মাপের থাকে যার ফলে এটা ইঞ্জিনের যে কোন অংশে খুব ভালোভাবে প্রবেশ করতে পারে এবং ইঞ্জিনের পারফরমেন্স ও কার্যক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।


সিনথেটিক অয়েলে ইনজিন চালু করা থেকেই তার কাজ শুরু করতে পারে যেখানে মিনারেল অয়েল কিছুটা সময় নেয় পুরো ইনজিনে ছড়িয়ে সমান ভাবে কার্যকর হতে, সেখানে সিনথেটিক অয়েল দ্রুত কাজ শুরু করতে পারে।


সিনথেটিক অয়েল গাড়ীর জ্বালানী খরচ কমায়। ইনজিন চালু হয়ে কাজর্করী হতে মিনারেল অয়েল কিছুটা সময় নেয়। এসময় গাড়ী তুলনামূলক কম গতি পায় এবং অয়েলের ঘনত্ব বেশি থাকাতে ইনজিনের ভেতরে পার্টস এবং ইনজিনঅয়েলের ঘর্ষন বেশি মাত্রায় থাকে। অপরদিকে সিনথেটিক অয়েল প্রতি মুহুর্তেই একইভাবে সমান কার্যকর থাকে। ফলে জ্বালানী খরচ কম লাগে।


সুবিধা


    অসাধারন কার্যকরী

    অল্প তাপমাত্রাতেও লুব্রিকেন্ট থাকে দারুন কার্যকর

    বেশি তাপমাত্রাতেও ইনজিনকে ঠান্ডা রাখে

    ইনজিনের ময়লা চমতকারভাবে পরিস্কার করে

    জমে থাকা ক্ষতিকারক পদার্থ থেকে রক্ষা করে

    ইনজিনের কার্যক্ষমতা বাড়ায়

    দ্রুত গতিতেও ইনজিনঅয়েল কম খরচ হয়

    কম থেকে বেশি সকল তাপমাত্রায় সমান কার্যকর

    ইনজিনের ভেতরে ঘর্ষন কমিয়ে ইনজিনের স্থায়ীত্ব বাড়ায়

    সর্বোচ্চ রাসায়নিক বিক্রিয়াতেও সমান কার্যকর

    অতি তাপে বাষ্পিভূত হয়ে কমে যাওয়ার সম্ভবনা অনেক কম থাকে।

    অনেক বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকে।

    তেলের অনুগুলো প্রত্যেকে একই সমান বলে সঠিকভাবে কার্যকর হয়


অসুবিধা


    দাম বেশি

    সঠিক গুনগত মানের জিনিস বাজারে পাওয়ার নিশ্চয়তা কম

    অনেকেরই কার্যকারীতা সম্পর্কে সঠিক ধারনা নেই

    অল্প সিসির বাইক ব্যবহারকারীরা সিনথেটিক অয়েলে কম আগ্রহী এবং আমাদের দেশে অল্প সিসি বাইক ব্যবহারকারীর সংখ্যাই বেশি


সবশেষে গুরুর পরামর্শ থাকবে যে , আপনি আপনার বাইকে কোন ধরনের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করবেন, কোন ধরনের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করলে আপনার জন্য ও বাইকের জন্য সাশ্রয়ী হবে ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখেই ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করবেন।


গুরু গাইডঃ বাইক ব্রেক ইন পিরিয়ডে থাকা কালীন সময়ে সর্বদা মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করবেন কারণ ব্রেক ইন পিরিয়ডে বাইকে ইঞ্জিন অয়েল ঘন ঘন পরিবর্তন করতে হয়যার ফলে আপনি যদি মিনারেল বাদে সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রে আপনার জন্য ব্যয়বহুল হবে এবং ৩ হাজার কিলোমিটারের পর থেকে সিনথেটিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা শুরু করবেন। আশা করি আপনার বাইকের ইঞ্জিন অনেক ভালো পারফরমেন্স দিবে এবং অনেক কার্যকরী হবে।  






  MORE FEATURES  


মোটরসাইকেল হেলমেটের প্রকারভেদ

2020-08-20   96

হেলমেট একজন বাইকারের কাছে ততটাই প্রয়োজনীয় ঠিক যতটা হচ্ছে বাইকের ফুয়েল। হ্যাঁ! হেলমেট সর্বাধিক সুরক্ষা প্রদানকারী একটি গিয়ার যা সকল রাইডার তাদের নিজের সুরক্ষার জন্য ব্যাবহার করে থাকে। আমাদের মাথা আমাদের দেহের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং হেলমেট সেই অঙ্গকেই যে কোন খারাপ ঘটনার হাত থেকে বাঁচায়, তাই নিজেকে বাঁচাতে হেলমেট পরার বিকল্প নেই। আমাদের মধ্যে বে...   Bangla     English  




  NEWS  


নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে Motul এখন বাংলাদেশে

2020-08-29   174

বাইকারদের প্রিয় ও বিশ্বস্ত লুব্রিক্যান্টস ব্র্যান্ড Motul এর পথচলা শুরু হয়েছে স্বরূপে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে। বাংলাদেশে মতুল লুব্রিক্যান্টস এর নতুন যাত্রা শুরু হলো অফিসিয়ালি বাই Moto Industries Limited এর সাথে। সুজুকির সকল আউটলেটে মতুল লুব্রিক্যান্টস পাবেন সেই সাথে অন্যান্য লুব্রিক্যান্টস শপেও পাবেন মতুল লুব্রিক্যান্টস।প্রোডাক্ট লাইনআপ১। মোটরসাই...   Bangla     English  



বাংলাদেশের বাজারে এলো শার্ক হেলমেট

2020-08-24   87

বাংলাদেশের হেলমেট প্রেমীদের জন্য সুখবর। এখন বিশ্বখ্যাত শার্ক ব্রান্ডের হেলমেট পাওয়া যাবে বাংলাদেশে। জনপ্রিয় এই হেলমেট প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ডটি পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোতে সুনামের সাথে হেলমেট বিক্রয় করে আসছে এবং তাদের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। ভালো কোয়ালিটি, স্টাইলিশ ডিজাইন এবং বিভিন্ন ধরনের হেলমেট থাকায় এই জনপ্রিয়তা শীর্ষে । এতদিন আমরা দেশে আসছি আমাদের পার্...   Bangla     English  




  GURU GUIDE  


কীভাবে ভালো মানের হেলমেট চিনবেন ?

2020-10-18  9

হেলমেট একজন বাইকারের কাছে খুবই প্রয়োজনীয় একটা গিয়ারস। হ্যাঁ! হেলমেট সর্বাধিক সুরক্ষা প্রদানকারী একটি গিয়ার যা সকল রাইডার তাদের নিজের সুরক্ষার জন্য ব্যাবহার করে থাকে। আমাদের মাথা আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং হেলমেট সেই অঙ্গকেই যে কোন খারাপ ঘটনার হাত থেকে বাঁচায়, তাই নিজেকে বাঁচাতে হেলমেট পরার বিকল্প নেই। আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ রাইডারই এখন ...   Bangla     English  



কীভাবে হেলমেটের ভাইজরের পরিস্কার করবেন ?

2020-08-23  87

হেলমেট হচ্ছে বাইক রাইডিং করার জন্য অবিচ্ছেদ্য একটি পার্টস। হেলমেটের প্রধান অংশগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এর ভাইজর (সামনের স্বচ্ছ প্লাস্টিক) যা আমাদের সামনের যে কোন জিনিস দেখতে সাহায্য করে পাশাপাশি রাস্তায় থাকা বালু কণা , কাদা, ময়লা পানি ইত্যাদি যে আমাদের চোখে , ত্বকে এসে না লাগে সেজন্য ভাইজার ব্যবহার করা জরুরি। হেলমেটের ভাইজর (সামনের স্বচ্ছ প্লাস্টিক) পরিস্কা...   Bangla     English